অন্যতম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, প্রকৃতির রহস্যঘেরা আমাদের সুন্দরবন। প্রায় ছয় হাজার
১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বিশ্বের ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ)
এই সুন্দরবন।সুন্দরবনের সবকিছুই বিস্ময়ে ভরা।ক্ষণে ক্ষণে এর রূপ বদলায়।এই শীতকালে
ঘরে বসে সময় না কাটিয়ে কয়েকদিনের জন্য বেড়িয়েই পড়ুন না সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে।
সুন্দরবনের যেসব জায়গায় ঘুরতে
পারেন:
(১) কটকা
সুন্দরবনের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর
মধ্যে কটকা অন্যতম।এখানে
রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খাল। এসব খালের পাশেই দেখা যায় চিত্রল হরিণ, বানর, আশপাশের হরিণের পাল দেখে সত্যিই বিহ্ববল হয়ে যেতে হয়।

(২) কটকা বিচ:
কটকার সমুদ্র সৈকত এক কথায়
অনবদ্য। সুন্দরবনের আকর্ষণীয় বিচগুলোর মধ্যে কটকা অন্যতম। বিচের পাশেই রয়েছে ৪০
ফুট উচু একটি টাওয়ার।এখান থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।
(৩) জামতলা সৈকত:
কটকা ওয়াচ টাওয়ার থেকে পূর্ব দিকে ২ কিলোমিটার হেঁটে গেলে দেখতে পাবেন জামতলা সমুদ্র সৈকত। পথ
চলতে চলতে চোখে পড়বে বিভিন্ন আকারের জামগাছ, যার থেকে সৈকতটির নামকরণের
সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। সৈকতটি নির্জন এবং পরিচ্ছন্ন।
মংলা থেকে সরাসরি ৭০/৭৫ কিলোমিটার দূরে
অবস্থিত কচিখালী, সুন্দরবনের আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আছে পূর্ব পশ্চিমে আনুমানিক ৩ কি.মি বিস্তূত সী-বিচ। কচিখালিতে আরো আছে বন বিভাগের নিজেস্ব রেষ্ট হাউজ। কোষ্ট গার্ডের অস্থায়ী টহল অফিস।
(৫) করমজল
সুন্দরবন ভ্রমণ এবং সুন্দরবন
সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার জন্য করমজল হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত ও আকর্ষণীয়
স্থান। করমজল বন্যপ্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র। এই প্রজনন কেন্দ্রে রয়েছে কুমির, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রজনন
এখানে একটি সংগ্রহশালা আছে। এতে সুন্দরবনের বাঘের কংকাল, হরিণের কংকাল, কুমিরের নমুনা ডিম, কুমিরের মাথাসহ সুন্দরবনের
বিভিন্ন প্রাণীর নমুনা রয়েছে।
(৬) হার বাড়িয়া
পশর নদীর তীরে মংলা থেকে ২০
কিঃমিঃ দূরে হার বাড়িয়া অবস্থিত। যার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী পর্যটকদের কাছে
অত্যন্ত আকর্ষনীয়। এখানে উন্নয়নের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে এ
স্থানটি করমজলের মতন আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে বলে এখনকার বন্য সংরক্ষণ অধিকর্তাদের
বিশ্বাস।
(৬) নীলকমল (হিরণপয়েন্ট)
নীলকমলকে সবাই হিরণ পয়েন্ট নামেই
বেশি চেনে। নীলকমল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র সুন্দরবনের আরেকটি দর্শনীয়
স্থান।হরিণের আদর্শ বিচরণক্ষেত্র এই হিরণ পয়েন্ট। আরও আছে বাঘ, বন্য শূকর, বানর, উদবিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এবং পাখি।
নীলকমলের জনমানব ও নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী দেখে মন উৎফুল হয়ে উঠে। অভয়ারণ্য কেন্দ্রের
অফিস গৃহ, বনকর্মীদের বাসগৃহ, পিকনিক স্পট সবই নীল রঙ্গে শোভিত করা হয়েছে। যাতে নীলকমল নামটির
সার্থকতা খুজে পাওয়া য়ায়।
(৭) দুবলার চর:
দুবলার চর সুন্দরবনের অন্তর্গত
একটি ছোট্ট চর। সমগ্র সুন্দরবন ঘুরে মানুষের দেখা না মিললেও এখানে দেখা মিলবে
হাজার হাজার মৎস্য শিকারির। নির্ধারিত ট্যুর স্পটের বাইরে জেলেদের মৌসুমী বসতি
দুবলার চরেও ঘুরতে যান অনেক পর্যটক। জেলেদের জীবনযাত্রা, তাদের সংগ্রামমুখর জীবন, মাছ ধরার দৃশ্য এবং আহরিত মাছ
শুঁটকী করার দৃশ্য দেখতে পাবেন সহজেই। প্রতিবছর এখানে রাস পূর্ণিমায় বসে রাসমেলা।
লাখো মানুষের আগমন ঘটে এই রাসমেলায়। তীর্থযাত্রীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি
বিপুলসংখ্যক পর্যটকও ভিড় করেন এইসময়।পরিণত হয় লাখো মানুষের মিলনমেলায়।
No comments:
Post a Comment